পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনের সামনে একদল লোক জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার পর সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশে সোমবার বিকেলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তা জোরদারের পটভূমি
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পর রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-এর চারপাশের নিরাপত্তাও কঠোর করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ৬টা পর্যন্ত গণনায় ট্রেন্ডে দেখা যায়, ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মধ্যে বিজেপি ২০২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ৮৪টি আসনে এগিয়ে আছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, একদল লোক সেখানে পৌঁছে স্লোগান দিচ্ছে, এমন খবর পাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন এবং রাজ্য সচিবালয়ের চারপাশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনও বিঘ্ন ঘটাতে চাই না। তিনি আরও বলেন, আমরা কোনও ঝুঁকি নেব না এবং কেউ শান্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজয় মিছিলের নির্দেশনা
এর আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই নির্বাচন কমিশন সোমবার কোনও রাজনৈতিক দলকে বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছে। সব ধরনের বিজয় মিছিল মঙ্গলবার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ভবানীপুর আসনের গণনাকেন্দ্রে মমতা
এদিকে, তৃণমূলের এক এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাই-প্রোফাইল ভবানীপুর বিধানসভা আসনের গণনাকেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছান। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তুলনায় শেষ কয়েক রাউন্ডে তার ব্যবধান কমে আসায় মমতা লর্ড সিনহা রোডের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলে যান। এটি ভবানীপুরের নির্ধারিত গণনাকেন্দ্র। শুভেন্দু অধিকারীও সেই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত রয়েছেন।
তৃণমূলের নেতাদের দাবি, তাদের একজন কাউন্টিং এজেন্টকে গণনাকেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনার পরই মমতা সেখানে সশরীরে হাজির হন। ভবানীপুরের এই লড়াইটি রাজ্যের অন্যতম শীর্ষ আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দুই নেতার মর্যাদার এই লড়াইয়ে দিনভর ফলাফলের বেশ ওঠানামা দেখা গেছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া



