গাজীপুরের শ্রীপুরে ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬০ বছর বয়সী বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীনকে গণশুনানিতে ডেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জয়নাল। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফাওগান গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
জয়নাল আবেদীন ফাওগান গ্রামের মৃত নাইমুদ্দিনের ছেলে এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটির পরিবার পলাতক রয়েছে।
হামলার বিবরণ
নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, রশিদুল ইসলাম তার বাবাকে ফাওগান বাজারের কাছে একটি স্কুল মাঠে সালিসের নামে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয়দের সামনে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা তাকে বারবার পিটিয়ে আহত করে ফার্মেসির কাছে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসলে হামলাকারীরা ফিরে এসে আবারও তার বাবাকে পিটিয়ে এবং বাড়িতে হামলা চালায়।
নিহতের আরেক ছেলে মনির হোসেন অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম তার বাবাকে গুরুতরভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন, যার মধ্যে অণ্ডকোষ চেপে ধরাও ছিল। পরে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া জানান, ইউপি সদস্য রশিদুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনকে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ এনে স্কুল মাঠে ডেকে নিয়ে যান, যেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, এলাকাবাসী ন্যায়বিচার এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
পুলিশের অবস্থান
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান, নিহতের ছেলে আনোয়ার হোসেন বুধবার বিকেলে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।



