টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের মাচালং এবং বাঘাই হাটবাজার এলাকায় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়া ৫৬১ পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ গন্তব্যে ফিরেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সাজেক ছেড়েছেন ৪১১ পর্যটক, এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফিরেছেন ১৫০ পর্যটক। তারা সবাই নিজেদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আটকা পড়ার কারণ ও উদ্ধার অভিযান
জানা যায়, টানা বর্ষণে সড়ক ডুবে যাওয়ায় বুধবার থেকে ওই রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাজেক ভ্যালিতে ঘুরতে যাওয়া ৫৬১ পর্যটক আটকে পড়েন। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রথম দফায় ১৫০ জনকে নৌকা ও বাঁশের ভেলায় করে পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধ এলাকা পার করিয়ে দেওয়া হয়। একইভাবে শুক্রবার সকালে বাকি ৪১১ জনকে সড়কপথে নিরাপদ গন্তব্যে পাঠায় সেনাবাহিনী।
প্রশাসনের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির দীঘিনালা-বাঘাইহাট-মাচালং-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হয়। এতে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও বাঁশের ভেলার মাধ্যমে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, "বৃহস্পতিবার বিকালে ১৫০ পর্যটক সাজেক ছাড়েন। শুক্রবার সকালে ছেড়েছেন ৪১১ জন। তাদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় সড়কপথে নিজেদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে আর কোনো পর্যটক নেই।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, "সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রথম দফায় কিছুসংখ্যক চলে গেছেন। শুক্রবার সকালে বাকিরা সাজেক ছেড়ে তাদের নিরাপদ গন্তব্যে ফিরেছেন।"
সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িকভাবে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যা এখনো বলবৎ রয়েছে। ৭ জুলাই সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।



