২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে গুলশান থানার সামনে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যটি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাস্কর্যটি তৈরি করেছিলেন ভাস্কর মৃণাল হক।
শহীদদের আত্মত্যাগ ও ভাস্কর্যের ইতিহাস
ওই হামলায় জিম্মিদের উদ্ধারে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলি ও গ্রেনেডের আঘাতে নিহত হন তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন। ভাস্কর্যটি প্রতি বছর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনাররা শ্রদ্ধা জানাতেন। কিন্তু ভেঙে ফেলার পর সেখানে আর কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা
শহীদ রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস বলেন, ‘ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকও রবিউলের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভাস্কর্য বা নামফলক নিছক স্মারক নয়, এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাসের সাক্ষ্য।’
শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার প্রয়াস
২০২৬ সালের ১ জুলাই বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভবিহীন গুলশান থানার সামনে পূর্বের ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্যের স্থানে শ্রদ্ধা জানান একদল শিক্ষার্থী। এছাড়া রবিউলের গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লুমস কাটিগ্রাম’-এ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শামসুজ্জামান বলেন, ‘রবিউলদের এভাবেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত।’
সরকার ও পুলিশের প্রতি প্রত্যাশা
পরিবারের পক্ষ থেকে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর কাছে প্রত্যাশা, শহীদ রবিউল ও সালাউদ্দিন এবং আহত পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানার সুযোগ করে দেওয়া হোক। শামসুজ্জামান বলেন, ‘রবিউলদের শুধু নিজের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দিয়ে, দেশ ও রাষ্ট্রের সম্পদ করে রাখুন।’



