সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন, জামিনের পর গাজীপুরে ছাড়া পেয়েছেন
সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন

সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, জামিনের পর গাজীপুরে ছাড়া পেলেন

সাংবাদিক আনিস আলমগীর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার মাত্র দুদিন পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই মুক্তির বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর জেল সুপার মো. আল মামুন।

মুক্তির প্রক্রিয়া ও সময়সূচি

জেল সুপার মো. আল মামুন প্রথম আলোকে জানান, গতকাল শুক্রবার আনিস আলমগীরের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির সময়ে আনিস আলমগীরের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কারাগারে উপস্থিত ছিলেন, যা এই মুহূর্তটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

আদালতের জামিন ও পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ

এর আগে ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি নিয়ে আনিস আলমগীরের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে নেওয়া হয়েছিল। পরদিন তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় ৫ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন উচ্চ আদালত।

দুদকের মামলা ও জামিন প্রক্রিয়া

গত ১৫ জানুয়ারি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা করে। এই মামলায় আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি দুদক এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে এই মামলায়ও আনিস আলমগীর জামিন পান, যা তাঁর মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি নিয়ে দেশের গণমাধ্যম ও আইনজীবী মহলে আলোচনা চলছে। তাঁর মুক্তির এই ঘটনা বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।