শাহরিয়ার কবিরের মুক্তি ও চিকিৎসা সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জরুরি আহ্বান
কারাবন্দী লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের অবিলম্বে মুক্তি ও চিকিৎসা সুরক্ষা নিশ্চিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পাঁচটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকা শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে এবং তাঁর স্বাস্থ্য ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংগঠনগুলোর পরিচয় ও উদ্বেগ
এই সংগঠনগুলো হলো বেলজিয়ামের সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (এসএডিএফ), ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও যুক্তরাজ্য), জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স। তাদের যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা শাহরিয়ার কবির দীর্ঘদিন ধরে একাধিক রোগে ভুগছেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাঁর ওজন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার আবেদন সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যথোপযুক্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পরও তাঁর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সতর্কতা
সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সতর্কসংকেত দিয়েছে। লেমকিন ইনস্টিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন গত ৫ জানুয়ারি তাঁর আটককে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতার গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে। এর আগে জাতিসংঘের ইচ্ছাকৃত আটকসংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ তাঁদের ‘ওপিনিয়ন নং ৪০/২০২৫’-এ শাহরিয়ার কবিরের আটককে ইচ্ছাকৃত, অবৈধ এবং দণ্ডমূলক বলে ঘোষণা করে এবং তাঁর তাৎক্ষণিক মুক্তি, ক্ষতিপূরণ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানায়। তবে পূর্ববর্তী সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি।
জীবনের ঝুঁকি ও অতীতের উদাহরণ
বিবৃতিতে সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের হেফাজতে মৃত্যু এবং একই সময়ে এক শর বেশি বন্দীর মৃত্যুর রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ‘শাহরিয়ার কবিরের জীবনের ঝুঁকি এখন স্পষ্ট ও আসন্ন।’ এই পরিস্থিতিতে তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, কবিরের মতো প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীদের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
নেতৃত্ব ও দাবিসমূহ
ইউরোপ ও বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এই যৌথ আবেদনে নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউরোপীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরামের (ইইউ ও যুক্তরাজ্য) ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, জার্মানির ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের ক্লাউস স্ট্রেম্পেল, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্কের (গ্লোবাল নেটওয়ার্ক) তারিক গুনেরসেল এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্সের (গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম) অধ্যাপক এ বি এম নাসির। তাঁরা সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন:
- শাহরিয়ার কবিরসহ সব প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্দীর তাৎক্ষণিক মুক্তি।
- জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।
- সব কারাগারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলা।
এই দাবিগুলো মানবাধিকার রক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংগঠনগুলো উল্লেখ করেছে।
