এনসিপির উদ্বেগ: সাংবাদিক শোকজ ও বাসস এমডি হেনস্তায় গণমাধ্যম স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ
এনসিপির উদ্বেগ: সাংবাদিক শোকজে গণমাধ্যম স্বাধীনতা হুমকি

এনসিপির উদ্বেগ: সাংবাদিক শোকজ ও বাসস এমডি হেনস্তায় গণমাধ্যম স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন টেলিভিশনের সাংবাদিকদের শোকজ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দলের মিডিয়া সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উল্লিখিত দুটি ঘটনা আগামী দিনগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চিত্র কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'গণভোট ও সংস্কারের পক্ষে ফেসবুকে মতপ্রকাশ করায় 'এখন টিভি'র চার সাংবাদিককে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদকে পদ থেকে সরানোর জন্য এক ধরনের মব সৃষ্টি করা হয়েছে।' এনসিপি দৃঢ়ভাবে মনে করে যে, নতুন সরকার গঠনের মাত্র একদিনের মাথায় সংঘটিত এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার করুণ চিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। দলটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ঘটনাগুলো একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার সূচনা হতে পারে।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কৌশল

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, 'গণমাধ্যমের মালিকদের চাপ প্রয়োগ ও উচ্চ পর্যায়ে সাংবাদিক নামধারী দলদাসদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল নেওয়া হয়েছে। যেসব গণমাধ্যমে দলদাসদের বসানো হয়েছে, ইতোমধ্যেই সেসব গণমাধ্যমের গণবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।' এই প্রেক্ষাপটে, এখন টিভির চার সাংবাদিককে সংস্কারের পক্ষে এবং দলীয় লেজুড়বৃত্তিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ফ্যাসিবাদী আমলের ধারাবাহিকতা

এনসিপি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, 'বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এমডিকে অপসারণের জন্য মব সৃষ্টি প্রমাণ করে ফ্যাসিবাদী আমলে সংস্থাটি যেভাবে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের মতো ভূমিকা পালন করেছে, বর্তমান সরকারের আমলেও সেটি অব্যাহত থাকবে।' বিএনপি সরকার গঠনের পরদিনই সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার প্রয়াস থেকে বুঝতে পারা যায় যে, সামনের দিনে সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কীভাবে খড়গহস্ত হতে পারে।

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আহ্বান

দলটি জোর দিয়ে বলেছে, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তের মাধ্যমে অর্জিত মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না।' এনসিপি দাবি জানিয়েছে যে, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং বাসসের সম্পাদককে স্বপদে বহাল রেখে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা

শেষে, এনসিপি একটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, 'পুরনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারেরও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে মনে করে এনসিপি।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলটি ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।