গণতান্ত্রিক উত্তরণে পেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এক সন্ধিক্ষণে নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে পেন বাংলাদেশ। সংগঠনটি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট সরকারের কাছে বৈধতা ও দায়িত্ব উভয়ই বয়ে এনেছে। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রামরত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করা, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কর্তৃত্ব ও সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস করা।
সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের তাগিদ
পেন ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় শাখা পেন বাংলাদেশ বিবৃতিতে যোগ করেছে, "দেশটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকে পূর্ণ গণতান্ত্রিক শাসনে উত্তরণের সময়ে, নতুন সরকারকে নাগরিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে অগ্রাধিকার দিতে আমরা আহ্বান জানাই। বিশেষত সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করতে হবে।"
সংগঠনটি সংকুচিত নাগরিক পরিসরের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও ডিজিটাল ভাষ্যকারদের আটক ও নিপীড়নের দিকে নিয়ে গেছে। এছাড়া, ব্যাপক নিরাপত্তা আইন ও সর্বব্যাপী গোষ্ঠী সহিংসতা সতর্কতা ও আত্ম-সেন্সরশিপের একটি আবহ তৈরি করেছে, যা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের চেতনাকে ক্ষয় করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক পুনরায় সূচনার জন্য চার দফা দাবি
একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পুনরায় সূচনার জন্য পেন বাংলাদেশ চারটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে:
- সমস্ত লেখক, সাংবাদিক ও কর্মীদের মুক্তি: শান্তিপূর্ণ অভিব্যক্তির জন্য আটক সকল ব্যক্তির তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে হবে।
- নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের স্বাধীন তদন্ত: সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল ও নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারসহ নাগরিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বচ্ছ ও স্বাধীন পর্যালোচনা করতে হবে।
- দমনমূলক আইনি বিধান সংস্কার: অস্পষ্ট ধারা অনুযায়ী বক্তব্যকে অপরাধীকারক বিশেষ করে দমনমূলক আইনি বিধানের ব্যাপক সংস্কার কার্যকর করতে হবে।
- মিডিয়া স্বাধীনতার প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি: মিডিয়ার স্বাধীনতা, শৈল্পিক স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষার জন্য স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি অটল থাকার ঘোষণা
পেন বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক সনদের প্রতি সত্য থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, সংগঠনটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে, ঝুঁকিতে থাকা লেখকদের সমর্থন দিতে এবং অধিকার-ভিত্তিক শাসন শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। এই বিবৃতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ প্রতিফলিত করে।
