নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি জানাল পেন বাংলাদেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠন করায় নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে লেখক ও সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি দেশে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের সমর্থন ও সরকারের দায়িত্ব
বিবৃতিতে পেন বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের বিপুল সমর্থন সরকারের বৈধতা নিশ্চিত করেছে। তবে সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, এই সমর্থন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা, জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সাংবিধানিক অধিকারের ভারসাম্য পুনর্গঠনের দায়িত্বও বাড়িয়েছে।
লেখক-সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ
পেন বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও অনলাইন মতামত-দাতাদের গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির মতে, পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাগুলো এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যা সাংবিধানিক গণতন্ত্রের চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য চারটি মূল দাবি
গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের স্বার্থে পেন বাংলাদেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের কারণে আটক সব লেখক, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীর মুক্তি নিশ্চিত করা।
- সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা করা।
- অস্পষ্ট বা বিস্তৃত ধারায় মতপ্রকাশকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এমন দমনমূলক আইনের সংস্কার করা।
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সৃজনশীলতার স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা।
গঠনমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার
পেন বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, ঝুঁকিতে থাকা লেখকদের সহায়তা এবং অধিকারভিত্তিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাবে। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন সরকার নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।
