অনুমতি ছাড়া মানুষের ভিডিও ধারণ, ক্যামেরা তাক করা এবং ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘনের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে কনটেন্ট তৈরির নামে অনেকেই অন্যের সম্মতি ছাড়াই ভিডিও করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
আইনি বিশ্লেষণ
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন রাইজ ফর রাইটস ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাহিদ হাসান ফাহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পাবলিক প্লেসে ছবি বা ভিডিও ধারণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তাই দুই অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
অপরাধের মানদণ্ড
তিনি বলেন, “শুধু পাবলিক প্লেসে ভিডিও করাই অপরাধ নয়। তবে যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা অন্য কোনও বেআইনি উদ্দেশ্যে ভিডিও করা হয়, তাহলে সেটি আইনত ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।”
সামাজিক দায়বদ্ধতা
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও সিটিজেন জার্নালিজমের বিস্তারের কারণে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সম্মতি, গোপনীয়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করলেও ৪৩ অনুচ্ছেদ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত করে। এই দুই অধিকারের সমন্বয়ে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব।



