পিরোজপুরে পুলিশের হাতে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ
ব্যক্তিগত টাকা চুরির সন্দেহে পিরোজপুর জেলা পুলিশ মেসের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউনুস ফকিরকে (৪০) জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা নির্মম নির্যাতনের শিকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এই নৃশংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এইচআরএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগীর দ্রুত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং ভুক্তভোগী ইউনুস ফকিরের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে জেলা ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামের এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। হাতকড়া পরিয়ে তাকে জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। দুই পায়ের পাতায় বারবার আঘাত করা হয়। চিৎকার করলে মুখে লাঠি ঠেসে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে আরও নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি তার পুরুষাঙ্গে গলিত মোম ফেলে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুরির দায় স্বীকার ও টাকা উদ্ধার
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর একই পুলিশ মেসের ঝাড়ুদার শাকিল খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির দায় স্বীকার করেন এবং তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়। ফলে অভিযোগের সত্যতা না থাকা সত্ত্বেও ইউনুস ফকিরকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনের অপব্যবহার
এইচআরএসএস বলেছে, সন্দেহের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির ওপর এমন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুধু মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের শামিল। সংগঠনটি ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উন্নত চিকিৎসা প্রদান এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায়।
দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও আইনের প্রয়োগ
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা সাংবিধানিক অধিকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি থাকায় এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন-২০১৩-সহ সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং ঘটনার দ্রুত, দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে। সামগ্রিকভাবে, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



