জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অসামাজিক উপাদানের অবাধ প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন আবারো সামনে এসেছে। এক ছাত্রীকে নির্জন এলাকায় টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পর এ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, একাধিক খোলা প্রবেশপথ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বহিরাগতদের উপস্থিতি, প্রশাসনের উদাসীনতা ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের অন্যতম বৃহৎ আবাসিক ক্যাম্পাসটিকে ক্রমশ অসুরক্ষিত করে তুলছে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেসা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে কাছের ঝোপে টেনে নেয়। তার চিৎকারে ছুটে আসা অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে রাতভর বিক্ষোভ হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ও বহিরাগত প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা দাবি করে। বুধবার রাত পর্যন্ত মশাল মিছিল, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট চলে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে ছয় দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি দেয়।
ছয় দফা দাবি
- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা।
- নির্ধারিত সময়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনকে দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগ
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে অবাধ প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। আবাসিক হলে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় বহিরাগতদের আশ্রয় দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল র্যালি ও নির্জন এলাকায় রাতের জমায়েত সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্যাম্পাস নিরাপত্তা, আবাসন সংকট ও হয়রানির অভিযোগ মোকাবিলায় দুর্বলতা সৃষ্টি করেছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
প্রশাসনের উদ্যোগ ও বাস্তবতা
পূর্বে হয়রানি, ধর্ষণচেষ্টা, মাদক, চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় প্রশাসন বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, হল থেকে অবৈধ শিক্ষার্থী উচ্ছেদ ও নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছেন, সেই উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেসা হল, সুইমিং পুল, বোটানিক্যাল গার্ডেন, লেকসংলগ্ন এলাকা ও হলের পেছন দিক দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ। সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর। সিসিটিভি কভারেজ অপ্রতুল, অনেক ক্যামেরা নষ্ট, নিরাপত্তাকর্মী অপর্যাপ্ত ও টহল সীমিত।
তদন্তের অগ্রগতি
বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান জানান, খবর পেয়েই নিরাপত্তাকর্মীরা তল্লাশি চালায়, কিন্তু সন্দেহভাজনকে পাওয়া যায়নি। তবে তার জুতা ও আক্রমণে ব্যবহৃত জালজাতীয় বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়েছে। আশুলিয়া থানার ওসি মো. তারিকুল ইসলাম জানান, র্যাবের সহায়তায় তদন্ত চলছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার আশা করা যাচ্ছে।



