পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরও নয়জন বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনি প্রতীক এবং দলের তহবিলের দাবি জানাতে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশনের বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
‘আসল’ তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব দাবি
‘আসল’ তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করা এই ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। এই প্রতিনিধিদলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও রয়েছেন।
ঋতব্রতের বক্তব্য
দিল্লি যাওয়ার আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা আবেদন জমা দিয়েছিলেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছিলেন। কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেঞ্চের সামনে নিজেদের দাবি ও অবস্থান তুলে ধরা হবে।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা
১৯৬৮ সালের ইলেকশন সিম্বলস (রিজার্ভেশন অ্যান্ড অ্যালটমেন্ট) অর্ডার-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্বীকৃত কোনও রাজনৈতিক দলে বিভক্তি বা প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সৃষ্টি হলে দলীয় প্রতীক কার দখলে থাকবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের একাধিক পক্ষ নিজেদের প্রকৃত দল দাবি করলে নির্বাচন কমিশন সব তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিবেচনা করে কোন পক্ষ প্রকৃত দল, অথবা কোনও পক্ষই প্রকৃত দল নয় এমন সিদ্ধান্ত দিতে পারে। কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।
পূর্ববর্তী নজির
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীকে দলটির আনুষ্ঠানিক পক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একইভাবে অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপিকেও প্রকৃত এনসিপি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এবং শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপিকে নতুন প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সম্মেলন ও নতুন চেয়ারপারসন
গত ২২ জুন ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বিধায়ক, সাবেক বিধায়ক, কাউন্সিলর ও অন্য নেতাদের নিয়ে একটি সম্মেলন করে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে হাওড়া মধ্যের বিধায়ক এবং একসময়ের মমতা-ঘনিষ্ঠ অরূপ রায়কে দলের চেয়ারপারসন ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পদে ছিলেন মমতা।
মমতা শিবিরের প্রতিক্রিয়া
এদিকে মমতা-অনুগত এক বিধায়ক বলেন, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। তারাও নির্বাচন কমিশনের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে।



