চট্টগ্রামে দেয়ালধসে যুবকের মৃত্যু, আহত ২
চট্টগ্রামে দেয়ালধসে যুবকের মৃত্যু, আহত ২

চট্টগ্রাম নগরের রহমাননগর এলাকায় দেয়ালধসে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাঁরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে পাঁচলাইশ থানার রহমাননগরের বি ব্লক ৪ নম্বর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ও আহত ব্যক্তিরা

নিহত ব্যক্তির নাম সফিকুল ইসলাম (৩২)। আহত ব্যক্তিরা হলেন তাঁর দেড় বছর বয়সী মেয়ে সাইফা এবং শাশুড়ি মর্জিনা বেগম (৫৫)। তাঁরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল আজম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় সফিকুল ইসলাম দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে দেয়ালের ওপর আছড়ে পড়ে। এরপর দেয়ালটি ভেঙে তাঁর শরীরের ওপর পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফায়ার সার্ভিসের বর্ণনা

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় পরিবারটি পাহাড়ঘেঁষা একটি সেমিপাকা ঘরে ছিল। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ঘরের দেয়ালের ওপর পড়ে। এতে দেয়ালটিও ধসে যায়। দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই সফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা আনিকা আক্তার বলেন, সফিকুল, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়ি পাশাপাশি ঘরে থাকতেন। দেয়াল ধসে সফিকুলের শাশুড়ি মর্জিনা বেগম ও মেয়ে সাইফা আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টি

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার বেলা তিনটা থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা তিনটা পর্যন্ত এই বৃষ্টি হয়। ১৯৮৩ সালের পর গত ৪৩ বছর এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাহাড়ধসের শঙ্কা ও প্রশাসনের ব্যবস্থা

টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাহাড়ধস নিয়ে। ভারী বর্ষণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও উপকূলসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। নগরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তবে পাহাড়গুলোতে অবৈধ বসতি থাকায় পাহাড়ধসের শঙ্কা কাটছে না।