কাতারের বিমান ফেরত দিয়ে পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প
কাতারের বিমান ফেরত দিয়ে পুরোনো বিমানে তুরস্ক ছাড়লেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বিলাসবহুল জেট বিমানটি আগেই ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজে দেশে ফেরার জন্য বেছে নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত পুরোনো একটি বিমান।

পুরোনো বিমান কেন বেশি নিরাপদ?

দুইজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড-ইন-চিফের (প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরোনো বিমানটি সম্পূর্ণ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে কাতারের অনুদান হিসেবে দেওয়া নতুন বিমানটি সম্প্রতি মার্কিন বহরে যুক্ত করার জন্য পরিমার্জন করা হয়েছে। ফলে এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা কর্মীরা পুরোনো বিমানটিতেই প্রেসিডেন্টকে বহন করতে বেশি নিরাপদ বোধ করেছেন।

ট্রাম্পের প্রাণনাশের আশঙ্কা

যদিও সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ট্রাম্পের ওপর সুনির্দিষ্ট বা নতুন কোনো হামলার হুমকি ছিল না, তবে তুরস্কের সীমান্তঘেঁষা ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প নিজেই তার প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে আছি।” নিউইয়র্ক টাইমসও এর আগে এই নিরাপত্তা উদ্বেগের খবর প্রকাশ করেছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন বিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন বিমানটির চেয়ে পুরোনো বিমানটি ঠিক কেন বেশি নিরাপদ, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বিষয়টির সাথে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কিছু সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে নতুন বিমানটিতে। যদিও তৃতীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, এটিতেও পুরোনো বিমানের মতো অনেক উন্নত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “হুমকির মূল্যায়ন সবসময় পরিবর্তনশীল।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিমান ইংল্যান্ডে পাঠানোর কারণ

ন্যাটো সম্মেলন শেষ করে ট্রাম্প তুরস্ক ত্যাগ করার আগেই কাতারের দেওয়া বিমানটি ইংল্যান্ডের মাইল্ডেনহল বিমান ঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ঘাঁটিতে নিয়োজিত মার্কিন সেনাসদস্যদের বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিতেই এটি আগে পাঠানো হয়েছে। তিনি লিখেন, “সবাই খুব উত্তেজিত, তাই আমরা ভাবলাম ওরাই প্রথম এটি দেখুক।”

ট্রাম্পের মিশ্র বক্তব্য

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের একটি সুরক্ষিত বিমান ঘাঁটিতে বিমান পরিবর্তন করার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুটা মিশ্র বক্তব্য দেন। তিনি প্রথমে বলেন, “কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না, আমরা কেবল বিমানটি একটু আগে পাঠিয়েছি যাতে তারা এটি দেখতে পারে।” কিন্তু আঙ্কারা থেকে বিমানটি ওড়ার সময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলার কারণ জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে ইরানের নিরাপত্তা হুমকি এর একটি কারণ হতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, “কিছু নোংরা লোকের কারণে এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। এরা অসুস্থ মানসিকতার লোক, তাই এমন কিছু ঘটা অসম্ভব নয়।” তবে সাংবাদিকদের পর্দা নামানোর নির্দেশের বিষয়টি তিনি জানতেন না বলে জানান।

কাতারের বিমানের আইনি ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

সিএনএন জানায়, কাতার সরকারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই নতুন জেট বিমানটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি, নৈতিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার নানা প্রশ্ন উঠছিল। যদিও মার্কিন বিমান বাহিনী দাবি করেছে, বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রেসিডেন্টের মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, সামরিক বাহিনী এবং সিক্রেট সার্ভিস মনে করে এই ৭৪৭ বিমানটিকে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চুক্তি হওয়া দুটি নতুন জেটের কাজ এখনো বাকি এবং তা ২০২৮ সালের আগে প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ সেগুলোতে অত্যন্ত গোপনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যুক্ত করতে দীর্ঘ সময় এবং পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন বিমান হিসেবে ব্যবহার

অন্য একটি সূত্র জানায়, কাতারের বিমানটিকে সবসময় একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন বিমান’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা মূল নতুন বিমানগুলো প্রস্তুত হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যবহৃত হবে। মাত্র দেড় বছরের মধ্যে কাতার থেকে পাওয়া বিমানটির রূপান্তর কাজ শেষ হওয়ায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শুরু থেকেই কিছুটা চিন্তিত ছিলেন।

উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন বিমানটির চেয়ে পুরোনো বিমানটি ব্যবহারের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনেক আগেই আলোচনা করেছিলেন। সূত্রটি যোগ করে, নতুন বিমানটি প্রেসিডেন্টের ওড়ার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবে আন্তর্জাতিক উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়।

পুরোনো বিমানের বিশেষ সক্ষমতা

তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে বহনকারী পুরোনো বোয়িং ৭৪৭-২০০ বিমানটিতে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরার সুবিধাসহ অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং উন্নত আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা রয়েছে, যা এই মুহূর্তে ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।