শিবসেনায় ফাটল: সঞ্জয় রাউতের বিস্ফোরক দাবি ১৫ কোটি রুপি ও প্রাইভেট জেটে এমপি বিক্রি
শিবসেনায় ফাটল: সঞ্জয় রাউতের বিস্ফোরক দাবি ১৫ কোটি রুপি ও প্রাইভেট জেট

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও শিবসেনা ভাঙনের গুঞ্জন উঠেছে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) শিবিরে বড় ফাটল ধরার জল্পনার মধ্যে দলটির রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত সংসদ সদস্য কেনাবেচা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

সঞ্জয় রাউতের অভিযোগ

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সঞ্জয় রাউত এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বলেন, 'মহারাষ্ট্রের সংসদ সদস্যদের কিনতে আজ রাতে প্রত্যেককে ১৫ কোটি রুপি অগ্রিম দেওয়া হচ্ছে। এই তথ্য অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং ঘৃণ্য!' তবে তিনি দাবি করেন, দলের ওপর বড় কোনো বিপদ নেই এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে তিনি আরেকটি দাবি করেন, নান্দেদ বিমানবন্দর থেকে শিবসেনার (ইউবিটি) দুই সংসদ সদস্যকে তুলে নেওয়ার জন্য একটি চার্টার্ড বিমান পাঠানো হয়েছিল। তিনি লেখেন, 'যাদের একসময় রিকশায় চড়ার সামর্থ্য ছিল না, আজ ঠাকরে নামের কল্যাণে তারা প্রাইভেট জেটে ঘোরার মতো দামী হয়ে উঠেছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধব শিবিরের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সংসদ সদস্য একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে সঞ্জয় দিনা পাতিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাতিল আশ্তিক্কর, ওমবাজে নিম্বালকর, ওয়াকচৌরে, সঞ্জয় যাদব এবং রাজাভাবু ওয়াজের নাম রয়েছে।

এই বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে আলাদা গোষ্ঠী গঠনের চিঠি জমা দিতে পারেন এবং পরে শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হতে পারেন। তাঁরা ইতিমধ্যে দিল্লিতে একনাথ শিন্ডের পুত্র তথা সংসদ সদস্য শ্রীকান্ত শিন্ডের বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধব শিবিরের পদক্ষেপ

বিদ্রোহীদের ঠেকাতে উদ্ধব শিবির কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) দিল্লিতে বেলা ১১টায় দলের সংসদীয় কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বৈঠকে যারা অনুপস্থিত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় বিদ্রোহীদের আনার জন্য আইনজীবীদের সঙ্গেও পরামর্শ করছে ঠাকরে পক্ষ।

উদ্ধব অনুগামী সংসদ সদস্য অরবিন্দ সাওয়ান্ত স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সময় চেয়েছেন, যাতে উদ্ধব ঠাকরের পক্ষ থেকে আগে থেকেই একটি চিঠি জমা দিয়ে আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল মনে করছে, উদ্ধব ঠাকরে আবারও ২০২২ সালের মতো মহাসংকটের মুখোমুখি। সেবার একনাথ শিন্ডে দল ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে বিজেপির সহায়তায় সরকার গঠন করেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশন থেকে আসল 'শিবসেনা' নাম ও দলীয় প্রতীক (ধনুক-তীর) ছিনিয়ে নিয়েছিলেন।

রোববার (১৪ জুন) উদ্ধব ঠাকরের বাসভবন 'মাতোশ্রী'তে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৫ জন সশরীরে অনুপস্থিত ছিলেন, যা ভাঙনের গুঞ্জন আরও তীব্র করে। যদিও দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু তার আগের দিন আদিত্য ঠাকরের জন্মদিনেও এই ৫ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়নি। ফলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত নাটকীয় হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।