ফিলিস্তিনে ২০২৭ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা
ফিলিস্তিনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৭ সালে

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছেন আব্বাস, তবে তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি।

ডিক্রির বিবরণ

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা করেছেন যে ২০২৭ সালের শুরুতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ পাশাপাশি ডিক্রিতে চলতি বছরের নভেম্বরে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আব্বাস বলেছেন, তিনি নভেম্বর মাসে নির্ধারিত প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিলের নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই নির্বাচনের আওতায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাধারণ আইনসভা নির্বাচন এবং বিদেশে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের ভোটগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পটভূমি

বর্তমানে ৯০ বছর বয়সী আব্বাস ২০০৫ সালে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চার বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হয় এবং এরপর আর কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করছেন, যা দেশে ও বিদেশে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনসভা নির্বাচনের ইতিহাস

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৬ সালে, যেখানে হামাস বিজয়ী হয় এবং আব্বাসের দল ফাতাহকে পরাজিত করে। এরপর থেকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইনসভা প্যালেস্টাইন লেজিসলেটিভ কাউন্সিল ২০০৭ সালের পর আর কার্যত বৈঠকে বসেনি। প্যালেস্টাইন ন্যাশনাল কাউন্সিল (পিএনসি) হলো প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর আইনসভা, যার সদস্যসংখ্যা ৭০০-এর বেশি এবং তারা ফিলিস্তিনি অঞ্চল ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যারা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন আয়োজনসহ বিভিন্ন সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই নির্বাচনের ঘোষণাকে সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি আইন গবেষক মাহমুদ আল-আফরানজি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক চাপ উভয়ই বিদ্যমান। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকায় ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা না থাকায় আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের পথে এখনো বড় বাধা রয়েছে।

পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা

২০২১ সালেও আব্বাস মে মাসে আইনসভা এবং জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু পূর্ব জেরুজালেমে ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমবারের মতো গত এপ্রিলে অধিকৃত পশ্চিমতীরে পৌর পরিষদের প্রধান নির্বাচনে ভোট দেন ফিলিস্তিনিরা।