চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরানের একটি নতুন ও ‘সুনির্দিষ্ট’ পরিকল্পনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেছে ইসরাইল। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।
ইসরাইলের নতুন সতর্কতা
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিনিয়ত গোয়েন্দা তথ্য পর্যবেক্ষণ করে আসছে। তবে ইসরাইলের দেওয়া এ সতর্কতাটি ছিল একেবারে নতুন এবং একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের বিষয়ে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই গোয়েন্দা তথ্যে একটি ‘নতুন’ ছকের কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পালটা হামলার জেরে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় ট্রাম্পের পুরোনো বিমান ব্যবহারের রহস্যময় ঘটনার পর এ প্রতিবেদনগুলো সামনে এল। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার নির্দেশেই ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য
এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা এএফপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা গত বুধবার দেওয়া ট্রাম্পের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে—অর্থাৎ আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। আমি যেকোনো তালিকাতেই আছি। আজ সকালে আমি দেখলাম যে, তাদের প্রতিটি তালিকাতেই আমার নাম আছে।’
বিমান পরিবর্তনের রহস্য
ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার জন্য ট্রাম্প তার পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানটি ব্যবহার করেন। আর কাতারের উপহার দেওয়া তার নতুন জেট বিমানটি আগেভাগেই ব্রিটেনে পাঠিয়ে দেন। পরে ওয়াশিংটনে যাওয়ার জন্য তিনি ব্রিটেনে গিয়ে বিমান পরিবর্তন করেন। নতুন জেট বিমানের প্রথম বিদেশ সফরেই এমন পরিবর্তনের কারণে জল্পনা শুরু হয় যে, এর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হয়তো ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন তুরস্কের প্রতিবেশী দেশ ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপত্তামূলক সতর্কতা
নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার গভীর রাতে এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ‘নিরাপত্তামূলক সতর্কতা’ হিসেবেই বিমান পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেও, এর আগে ইরানের করা কথিত হত্যাচেষ্টাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেন।



