প্যারাগুয়ের একজন নারী সিনেটর কর্তৃক ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বর্ণবাদী গালিগালাজ ও অবমাননা করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ফ্রান্সের প্রসিকিউটররা। বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
তদন্ত শুরু: প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয়
প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের অনলাইন ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তারা এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
গত শনিবার (৫ জুলাই) বিশ্বকাপের ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের জয়ের পর প্যারাগুয়ের লিবারেল র্যাডিক্যাল পার্টির সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ওই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে। সিনেটর আমারিলা মূলত এমবাপের পারিবারিক উৎস, বেড়ে ওঠা, শিক্ষা এবং গায়ের রং ও শারীরিক গঠন নিয়ে উপহাস করেন।
এমবাপ্পের প্রতিক্রিয়া ও আইনি ধারা
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এমবাপে ওই সিনেটরকে এক হাত নিয়েছেন। ফরাসি অধিনায়ক তাকে একজন ঘৃণ্য নারী এবং প্যারাগুয়ের কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করার অযোগ্য বলে তীব্র সমালোচনা করেন। প্যারিস প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জাতিগত উৎস, জাতীয়তা, বর্ণ বা ধর্মের ওপর ভিত্তি করে এই ধরনের পাবলিক ইনসাল্ট এবং ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৫,০০০ ইউরো (প্রায় ৫১,০০০ ডলার) জরিমানার বিধান রয়েছে।
সিনেটরের ক্ষমা ও পাল্টা অভিযোগ
এদিকে বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে সিনেটর সেলেস্তে আমারিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরাসি ও স্প্যানিশ ভাষায় একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার ক্ষোভ ছিল ব্যক্তিগতভাবে এমবাপ্পের ওপর, ফ্রান্সের ওপর নয়। একজন মিশ্র বর্ণের মানুষ হিসেবে তিনি নিজেও অতীতে যেসব অপমান সহ্য করেছেন, ঠিক একই ধরনের মন্তব্য এমবাপ্পেকে করার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার পূর্ববর্তী পোস্টটি মুছে দেন।
তবে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি এমবাপ্পের বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্সের অভিযোগ এনে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় এমবাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুমকি দেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি।



