মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশ-আমিরাতের ফোনালাপ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশ-আমিরাতের ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশ-আমিরাতের উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপ

ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকালে দুই নেতার মধ্যে এই একান্ত ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ফোনালাপে সামরিক উত্তেজনার প্রভাব মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে উভয় পক্ষই সোচ্চার ছিলেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে আলোচনায়।

আলাপকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) দেশগুলোর প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করার জন্য এবং তার আন্তরিক উদ্বেগের জন্য ধন্যবাদ জানান, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মজবুত বন্ধনেরই প্রতিফলন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে কৃতজ্ঞতা ও সহযোগিতা

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমি এবং ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এই আলোচনায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

ফোনালাপ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। ইউএই প্রেসিডেন্ট এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেন, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত বহন করে।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট এই ফোনালাপের জন্য এবং তার দেশের পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যা আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরে।

এই ফোনালাপটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশটির অঙ্গীকারেরই স্বাক্ষর বহন করে। দুই নেতার মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছে।