বিদেশে দেশের মাথা হেঁট হওয়ার কথা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ভবনে হামলার ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশের মাথা হেঁট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ঘটনায় আমাকে স্থানীয় কূটনৈতিক মহলে এবং বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে কথা শুনতে হয়েছে। আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে এই ঘটনায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা আজকে একটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে পারি যে, এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা আমাদের দেশে আর কখনও ঘটবে না। এই প্রতিজ্ঞাটি শুধু সরকারের নয়, সারা সমাজকেই করতে হবে।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ওপর এ ধরনের সংগঠিত আক্রমণ আমরা আগে কখনও দেখিনি। এটি ছিল স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ। ভয়ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ, জানমাল ধ্বংস করা এবং ভাঙচুর করা কোনো সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, “এ হামলার দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সঠিক নয়। এই সরকার এই হামলার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।”
প্রদর্শনীতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের উপস্থিতি
শনিবার প্রথম আলোর পুড়ে যাওয়া ভবনে আয়োজিত ‘আলো’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী দেখতে যান রাজনীতিবিদ, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা। এ তালিকায় ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম।
প্রথম আলো ভবন পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ডেইলি স্টার ভবনেও যান, যা এই হামলার ঘটনায় একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘আলো’ প্রদর্শনীর সময়সূচি ও তাৎপর্য
প্রথম আলোর পুড়িয়ে দেওয়া ভবন ঘিরে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের তৈরি ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। কাওরান বাজারে অবস্থিত পুড়ে যাওয়া ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।
প্রাথমিকভাবে প্রদর্শনী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল, কিন্তু পরে জনসমাগম ও আগ্রহের কারণে সময় দু’দিন বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
