প্রথম আলো ভবনে হামলার পর শিল্প-আয়োজন দেখলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বললেন 'মাথা হেঁট'
প্রথম আলো হামলার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

প্রথম আলো ভবনে হামলার পর শিল্প-আয়োজন দেখলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম আলো ভবন ঘিরে আয়োজিত শিল্প-প্রদর্শনী 'আলো' দেখতে এসেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবন পরিদর্শন করে তিনি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, 'প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ঘটনায় আমাকে স্থানীয় কূটনৈতিক মহলে এবং বিদেশে কথা শুনতে হয়েছে। আমাদের মাথা হেঁট হয়ে গেছে।'

খলিলুর রহমান আরও বলেন, 'আমরা আজকে একটা প্রতিজ্ঞা করতে পারি, এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে আর ঘটবে না এবং এই প্রতিজ্ঞাটি সারা সমাজকে করতে হবে।' তাঁর এই বক্তব্যে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ফুটে উঠেছে।

গত বছরের হামলার স্মৃতিচারণ

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ভবনে সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলা চালানো হয়। ভবনটি ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়েছিল। এরপর একইভাবে আক্রান্ত হয় ডেইলি স্টার অফিস। উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি ঘটেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়।

খলিলুর রহমান তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ওপর আক্রমণ এবং এই ধরনের ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। এটি ছিল স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ। তিনি বলেন, 'ভয়ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ, জানমাল ধ্বংস করা, ভাঙচুর করা সভ্য সমাজের অংশ হতে পারে না।'

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সমবেদনা

খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই হামলার দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া কোনো সরকারের পক্ষে সঠিক নয়। এই হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা বর্তমান সরকার করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভবন পরিদর্শনে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। পরে তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপনও ভবনটি পরিদর্শন করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, 'তারা যেন এই ধ্বংসস্তূপ থেকে, ভস্মের ওপর দাঁড়িয়ে থেকে আবার তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারেন। বাংলাদেশে সত্যিকারের স্বাধীন গণমাধ্যম হিসেবে আবার তাদের কর্ম সম্পাদন করতে পারেন, সেই আশা করছি।'

এই ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শন ও প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।