চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনা
চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনা

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর ও বিস্তারিত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় স্বাগত ও নতুন সরকারকে সমর্থন

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হওয়াকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূত ইয়াও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থায় সমর্থন জানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চীনের পক্ষ থেকে তিনি আরও জানান, সংহতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন বাংলাদেশকে অকুণ্ঠ সমর্থন করে। চীন তার ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি অনুসরণ করার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে এবং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সব খাতে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে চীন সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে

বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিশ্রুতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সাক্ষাতে স্পষ্টভাবে বলেন, চীন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশ চীনের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখবে এবং চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উভয় দেশের জনগণের বৃহত্তর সুবিধার জন্য চীনের সঙ্গে ব্যবহারিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতেও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উভয় পক্ষের মধ্যে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষ একমত হন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে চীন ও বাংলাদেশ সবসময় একে অপরকে সমর্থন করেছে, একে অপরকে সমান আচরণ করেছে এবং উইন-উইন সহযোগিতা অনুসরণ করেছে

ভবিষ্যত সহযোগিতার দিকনির্দেশনা

উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে তারা দুই দেশের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস্তব সহযোগিতাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে আসতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিশীলতা এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে।

সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমর্থনের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে তুলেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই আলোচনা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।