ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও অংশীদারিত্ব জোরদারের প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এই অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন ও চিঠির প্রকাশ
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) লেখা চিঠিতে আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক বিজয়ে শুভেচ্ছা ও সফলতা কামনা করা হয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের স্বীকৃতির ইঙ্গিত দেয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে মূল বিষয়সমূহ
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের চিঠিতে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব জোরদারে নিম্নলিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
- বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা।
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণ, যেখানে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।
- জলবায়ু কর্মকাণ্ড, অভিবাসন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা।
স্টারমার উল্লেখ করেন, "যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশাবাদী যে, আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা কেবল আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।"
অংশীদারিত্ব জোরদারে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি
চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে রয়েছি এবং অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার।" তিনি আরও যোগ করেন যে, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক শক্তিশালী করা হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা
মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন কিয়ার স্টারমার। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তাদের মানবিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রতিফলিত করে।
সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও আশাবাদ
পরিশেষে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরবর্তী অধ্যায়’ সফল ও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই চিঠি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সমর্থন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
