ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হতে পারে ১৫ দিনের মধ্যে: রেলমন্ত্রী
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
রেল খাতের চ্যালেঞ্জ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী রেল খাতে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও সমন্বয়হীনতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "অনেক জায়গায় রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু ইঞ্জিন ও বগির অভাবে ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। কোথাও ইঞ্জিন এসেছে, কিন্তু বগি নেই—এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।"
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী রেল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দেশের ভেতরেই ইঞ্জিন ও বগি তৈরি করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সমন্বয় আনার মাধ্যমে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ
রেলমন্ত্রী চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে যাত্রার সময় কমানো, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত টিকিট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনায় রেল খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও জনসাধারণের চলাচল সহজতর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রেলমন্ত্রীর এই ঘোষণা পরিবহন খাতের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
