শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে নতুন সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত: প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে নতুন সরকার

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন সরকার আগের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের অবস্থান

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, "শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আগের সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আরও নানা ইস্যু থাকবে, তা নিয়ে আলোচনাও চলবে ভারতের সঙ্গে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এখন থেকে শক্ত অবস্থানে থেকে সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব রক্ষা করবে, এবং সব দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়ভাবে ইস্যু সমাধানের জন্য এগোতে হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, "আগেই বলেছি, সব রাষ্ট্রের সঙ্গে, সব সরকারের সাথে আমাদের সম্পর্ক থাকবে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করে। অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটা দেখবে। যেহেতু এই প্রক্রিয়া চলমান আছে, এটি চালিয়ে নিতে হবে।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে নতুন সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক নীতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা

শামা ওবায়েদ বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে, এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেমন হওয়া উচিত, মেরুদণ্ড সোজা করে সব রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রেখে বন্ধুত্ব রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এখন থেকে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখতে হবে পুরো বিশ্বকে।" এই বক্তব্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।

এছাড়াও, প্রতিমন্ত্রী জানান যে, বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশের ভিসা জটিলতা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে, যা বিদেশে বসবাসকারী ও ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারে।

পটভূমি ও পূর্ববর্তী প্রচেষ্টা

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরাতে গত বছরের নভেম্বরে দিল্লিকে চিঠি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দুই দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত চায় ঢাকা। তবে সেই চিঠির উত্তর আজও দেয়নি দিল্লি, যা এই ইস্যুতে ভারতের অনীহা বা জটিলতা নির্দেশ করতে পারে।

২০২৪ সালেও শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দুই দফা কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কিন্তু তা সফল হয়নি। নতুন সরকারের এই ঘোষণা তাই পূর্বের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের দিকে একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে, শামা ওবায়েদের বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জটিল দিকগুলোতে আলোকপাত করেছে, এবং নতুন সরকার কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমই এখন নির্ধারণ করবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ফলাফল।