আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী নাজিম উদ্দিন তাঁর পুনঃ জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২৫ মে থেকে টানা পাঁচ মাস তিনি ডিজিএফআইয়ের জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) সেলে ছিলেন। আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে এ কথা বলেন তিনি।
সাক্ষীর বক্তব্য
পেশায় কম্পিউটার ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন আগে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি এই মামলার পঞ্চম সাক্ষী। গতকাল সোমবার তিনি প্রথম জবানবন্দি দেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পুনঃ জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।
আটকের বিবরণ
পুনঃ জবানবন্দিতে নাজিম উদ্দিন বলেন, পাঁচ মাস জেআইসির সেলে রাখার পর র্যাব–২–এর কার্যালয়ে তাঁকে ৪০ দিন রাখা হয়। এরপর র্যাব–১০–এ তাঁকে এক রাত রাখা হয়। ৯ দিন র্যাব–৭–এ রাখার পর তাঁকে মিথ্যা মামলা দিয়ে চট্টগ্রাম জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মামলার আসামিরা
গুম করে রাখার এই মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন সাবজেলে আছেন। তাঁরা হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার অন্য ১০ আসামি পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। আছেন আসামি গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
হানিফের মামলায় যুক্তিতর্ক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল–২–এ আজ এই যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী ও কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। এই মামলার সব আসামি পলাতক। এই চার আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।



