মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও তেহরান বলছে, ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়ার কোনো গুরুত্ব নেই। ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যখন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তখন বুঝতে হবে সেই পরিকল্পনা বেশ ভালো। ট্রাম্পের সন্তুষ্টির কথা চিন্তা করে ইরানে কেউ কাজ করছেন না।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
এর আগে ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের পাঠানো জবাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি আমি এইমাত্র পড়লাম। এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ একই সময়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ‘খুব চমৎকার’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরানি জবাবসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেছি।’ ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি একান্তই তাঁর নিজের ব্যাপার, অন্য কারও নয়।
ইরানের হুঁশিয়ারি
গতকাল সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘স্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গালিবাফ লেখেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের মুখে দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সব সময় ভুল ফলাফলই নিয়ে আসে—সারা বিশ্ব তা ইতিমধ্যে বুঝে গেছে।’ গালিবাফ সতর্ক করে আরও বলেন, ইরান ‘সব ধরনের বিকল্পের’ জন্য প্রস্তুত এবং তাদের বিরোধীরা পরিস্থিতির আকস্মিকতায় ‘বিস্মিত’ হবে।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের প্রস্তাবে মূলত যুদ্ধ বন্ধ করা, দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়। পরে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন।
পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরান ইসরায়েলে ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়। পরে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন।



