দুবাই থেকে ফেরত আনা হলো হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে
দুবাই থেকে ফেরত হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকার

হত্যা মামলার আসামিকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে ফেরত এনে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার তিন বছর পর ওই আসামিকে দেশে ফেরানো হলো। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম আরিফ সরকার (৪০)। গতকাল বুধবার তাকে দেশে ফেরানো হয় বলে আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পিবিআই।

মামলার বিবরণ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে বুধবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসায় হারুন অর রশিদ খানকে গুলি করা হয়। শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পর ১৩ এপ্রিল ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার শেষে ১ মে দেশে আনা হয়েছিল। এরপর ৭ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ মে হারুন অর রশিদ মারা যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও তদন্ত

গুলির ঘটনার দু’দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে আমিনুর রশীদ খান তাপস শিবপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। তাদের মধ্যে এজাহারনামীয় প্রধান আসামিসহ চারজন দুবাইয়ে অবস্থান করছিল। ওই বছরের ২৩ জুন মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। এরমধ্যে গত বছরের জুলাইতে ইন্টারপোলের সহায়তায় আসামি মহসিন মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেফতার মহসিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আরিফ সরকারসহ অন্য আসামিদের বিষয়ে তথ্য দেয়। তদন্তে আরিফের জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তার অবস্থান জানতে পিবিআই ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) আবেদন করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরিফের অবস্থান দুবাইতে নিশ্চিত হলে তাকে ফেরাতে পিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর তাকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে আবেদন করা হয়। এরমধ্যে গত বছরের নভেম্বরে আরিফসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই।

ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই এবং পুলিশ সদর দফতরের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম দুবাই গিয়ে আরিফকে ফিরিয়ে আনে।