বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
হামলার বিবরণ
বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে হামলার শিকার হন চন্দ্রনাথ রথ। একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার আগে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ এবং পালানোর পথ নির্ধারণ করে রেখেছিল হামলাকারীরা। তদন্তকারীদের মতে, রথের গাড়িকে একটি চার চাকার যান ও একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করছিল।
সূত্রগুলোর দাবি, চার চাকার গাড়িটি রথের গাড়ির সামনে গিয়ে গতি কমাতে বাধ্য করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা হামলাকারীরা কাছ থেকে গুলি চালায়। অন্তত ১০টি গুলি রথের শরীরে লাগে। গুলি তার বুক, পেট ও মাথায় আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে কোনও নম্বরপ্লেট ছিল না, যা পূর্বপরিকল্পিত হামলার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
আহত চালক ও তদন্ত
হামলায় রথের গাড়িচালকও আহত হয়েছেন। তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলায় ছোট আকারের আগ্নেয়াস্ত্র, সম্ভবত অস্ট্রিয়ায় তৈরি গ্লক পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ফরেনসিক বিশ্লেষণের পরই অস্ত্রের ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহাপরিদর্শক সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, গাড়িটির নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা হয়েছিল। আমরা গাড়িটি জব্দ করেছি এবং সেখান থেকে ব্যবহৃত কার্তুজ ও গুলি উদ্ধার করেছি। একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যশোর রোড ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত হত্যা’ ও ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আশপাশের এলাকায় অনেক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা। এটি আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি। তিনি আরও বলেন, সব বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। এটি বেদনাদায়ক হত্যা। পুলিশ আমাদের যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিজেপি নেতা অর্জুন সিং অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন। তারা বার্তা দিতে চায়, ক্ষমতায় না থাকলেও এখনও তারা শক্তিশালী। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, গণতন্ত্রে সহিংসতা ও রাজনৈতিক হত্যার কোনও স্থান নেই। একই সঙ্গে তারা আদালতের তত্ত্বাবধানে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে।



