যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ১৩১ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা: ইসলামী আন্দোলন
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তিতে ১৩১ বাধ্যবাধকতা: ইসলামী আন্দোলন

নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর একতরফাভাবে ১৩১টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই চুক্তিকে 'জাতির জন্য অশনি সংকেত' আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনে এই চুক্তি করা হয়েছে — যা দেশের স্বার্থরক্ষার পথে সবচেয়ে বড় হুমকি।

বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে

মঙ্গলবার (৫ মে) এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই এর যথার্থতা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে সেই উদ্বেগ ও আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

ভর্তুকি সংক্রান্ত উদ্বেগ

চুক্তির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে আতাউর রহমান জানান, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো ভর্তুকি-সংক্রান্ত বিধান। চুক্তির 'বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ' ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং পণ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশ ভর্তুকির তথ্য দেবে। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কী বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে।' তিনি বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের জনগণের স্বার্থে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতা

আতাউর রহমান আরও বলেন, চুক্তিতে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া ও তা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকাংশেই শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থ প্রাধান্য পায়। দেশীয় বাস্তবতায় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়, অন্য কোনো রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু এই চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়া হয়েছে।

সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা

বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার স্বাক্ষর করেছে। আর তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চুক্তি করার সময় বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আতাউর রহমান বলেন, 'দেশের স্বার্থ বিসর্জনে সরকার ও বিরোধী দল একমত হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় — এটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়।'

সর্বদলীয় আলোচনার আহ্বান

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সর্বদলীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, 'আমরা মনে করি, এই চুক্তি নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। কারণ, আমরা কোনো পরাশক্তির আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি না। একাত্তর ও জুলাই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।'