তামিলনাড়ুতে জোট সরকার গঠনের পথে টিভিক, আলোচনায় কংগ্রেস-বাম
টিভিকের জোট সরকার গঠন: কংগ্রেস-বামের সঙ্গে আলোচনা

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জিতে চমকপ্রদ অভিষেক ঘটালেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি অভিনয় থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয়ের দল টিভিকে। এই পরিস্থিতিতে জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে কংগ্রেস, বামপন্থি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন বিজয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে টিভি এ খবর জানিয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্য ও জোট সম্ভাবনা

তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয় এখন বিরোধী শিবিরের দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে চাইছেন। যার মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, বিদুথলাই চিরুথাইগাল কাটচি (ভিসিকে), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), সিপিআই (এম) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)। সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়েছে, শিগগিরই এসব দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পাঠানো হবে।

বর্তমানে কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআই (এম) ও আইইউএমএল দলগুলো ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ। গত ২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে কংগ্রেস ৫টি এবং বাকি দলগুলো প্রত্যেকে ২টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। কংগ্রেস ও তার মিত্ররা যদি বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে টিভিকে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যমাত্রা পার করে সরকার গঠন করতে পারবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচনের ফলাফল ও বিজয়ের অবস্থান

নির্বাচনে এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে-কে ক্ষমতাচ্যুত করেছে টিভিকে। ডিএমকে মাত্র ৫৯টি আসন পেয়ে এখন বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। এদিকে, বিজয় তার দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে টিভিকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

বিজয় ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য জোট নিয়ে জল্পনার মধ্যে কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দল একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, অনেক কিছু বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। তবে তামিলনাড়ুর মানুষ একটি স্পষ্ট রায় দিয়েছেন এবং আমাদের তা মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়া নিয়ে দলের ভেতর ভিন্ন মত থাকলেও সেন্থিল জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সংসদীয় কমিটি। তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস এখনও ডিএমকে-র সঙ্গেই আছে এবং কোনও ফাটল ধরেনি। যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বিজয়ের বাবার আহ্বান ও রাজনৈতিক পটভূমি

এর আগে বিজয়ের বাবা এস এ চন্দ্রশেখর খোলাখুলিভাবে কংগ্রেসকে বিজয়ের সঙ্গে জোট করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কংগ্রেসের একটি ঐতিহ্য ও ইতিহাস আছে। ক্ষমতার অভাবে সেই কংগ্রেস কেন সংকুচিত হচ্ছে? অন্য দলকে সমর্থন করতে গিয়ে তারা আজ ক্ষয়িষ্ণু। বিজয় তাদের সেই ক্ষমতা দিতে প্রস্তুত। কংগ্রেসের উচিত এই সুযোগটি কাজে লাগানো।

বিজয় ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা করেছিলেন যে তার দল একাই নির্বাচনে লড়বে এবং ডিএমকে, এআইএডিএমকে বা বিজেপির সঙ্গে কোনও জোট করবে না। তিনি নিজেকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাকে মূল ভিত্তি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত টিভিকে যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মাথায় ক্ষমতায় আসার এক অনন্য রাজনৈতিক মাইলফলক সৃষ্টি করবেন বিজয়।