রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বলেছেন, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও মানবিক চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন অপরিহার্য।
বাংলাদেশের মানবিক অবস্থান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেনের সাথে সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমানো
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাদের তহবিল বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক তহবিল ও প্রত্যাবাসন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
শরণার্থী শিবিরের বাস্তবতা
শিবিরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি বলেন, অত্যন্ত সীমিত জায়গায় উচ্চ জনঘনত্বের কারণে শরণার্থীরা গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় শিবির এলাকা সম্প্রসারণ কঠিন।
প্রত্যাবাসনই সর্বোত্তম সমাধান
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনই সংকটের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গাজা সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে রোহিঙ্গা সংকট যেন ছাপিয়ে না যায়।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যু
তিনি জাতিসংঘ ও ইউএনএইচসিআরকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে রোহিঙ্গা ইস্যুকে উচ্চ অগ্রাধিকারে রাখতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি মন্ত্রীকে ২০ মে অনুষ্ঠেয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জেআরপি) উপস্থাপনায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান।



