কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের তিন হেভিওয়েটের লড়াই
কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের তিন নেতার লড়াই

কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের তিন হেভিওয়েটের লড়াই

ভারতের কেরালা বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়ায় এখন রাজ্যজুড়ে একটাই আলোচনার বিষয়—কে হচ্ছেন কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

সরকার গঠনের দৌড়ে কংগ্রেসের অন্দরে তিন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে। এই তালিকায় সামনের সারিতে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা রমেশ চেন্নিথালা এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল।

মুখ্যমন্ত্রিত্বের তাৎপর্য

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মুখ্যমন্ত্রিত্বের লড়াই বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত অতীতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেটানোর জন্য তাদের কেন্দ্র বা অন্য কোনো দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে না থাকায় কেরালার এই মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদটি সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান

জনমত এবং সাংগঠনিক শক্তির বিচারে এই তিন নেতার অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। গত পাঁচ বছর ধরে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় অনেকের কাছেই ভি ডি সতীশনই ‘স্বাভাবিক পছন্দ’। এমনকি তার সমর্থকরা ইতোমধ্যেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে পোস্টার ও ফ্লেক্স লাগানো শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, রমেশ চেন্নিথালা দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি দলের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছিলেন এবং এবারও নিজেকে এই পদের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরতে তিনি ‘কেরালা যাত্রা’ নামে একটি পডকাস্ট সিরিজ চালু করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই দৌড়ে তৃতীয় নাম—কে সি বেণুগোপাল, যিনি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও, দলের হাই কমান্ডে তার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিধায়কদের একটি বড় অংশ তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। বিশেষ করে দলের প্রার্থী নির্বাচনের নেপথ্যে তার সাংগঠনিক দক্ষতাই ছিল মূল চালিকাশক্তি।

তবে বেণুগোপাল নিজে এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর দলের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি শেষ পর্যন্ত বেণুগোপালকে বেছে নেওয়া হয়, তবে তাকে কোনো বিধায়কের আসন খালি করিয়ে উপনির্বাচনের মাধ্যমে বিধানসভায় প্রবেশ করতে হবে।

দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থা

কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে দলের অন্দরে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও, কোনো ভাঙনের সম্ভাবনা নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা সবাই মেনে নেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ফলাফলের অপেক্ষা, যার পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কেরালার পরবর্তী মসনদের দখল কার হাতে থাকছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।