প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহ্যগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি স্মরণ করেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও এই সম্পর্ক সুদৃঢ় ছিল। বৈঠকে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে সহযোগিতা
শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানান ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি, সোলার পাওয়ার, আইসিটি, ই-ভেহিকলস, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি-বীজ ও সার খাতে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন ও বিনিয়োগ
দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে চীন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি। মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। শ্রমবাজারে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নেও চীন কাজ করতে আগ্রহী বলে জানায়।
অর্থনৈতিক অঞ্চল ও প্রকল্প
বৈঠকে চাইনিজ ইপিজেড স্থাপনের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে চীন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম উন্নয়ন, ইলেকট্রিক-বাস চালু, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম আরো বাড়ানো এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী।



