বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন এবং সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।
ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য
ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত জানান, মাত্র ১০০ দিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন অংশীদারত্ব থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক বিনিময় পর্যন্ত নানা উদ্যোগ দুই দেশের মানুষকে আরও কাছে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন তার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, এমন সময়ে একসঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন তিনি। প্রথম ১০০ দিনকে তিনি এই যাত্রার সূচনা বলে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার আগমনের আজ ১০০ দিন পূর্ণ হলো। তিনি ও তার স্ত্রী ডিয়ান বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অভাবনীয় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। তারা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে জানার সুযোগ উপভোগ করছেন। তিনি বলেন, আমরা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো ভ্রমণ করছি, পয়লা বৈশাখের উৎসবে আনন্দ করেছি, প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ দেখেছি এবং একজন স্থানীয় ব্লগারের সঙ্গে নতুন সব খাবারের স্বাদ নিচ্ছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের চাওয়ার ছিল না।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আগমন
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখানে এসেছেন। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগে। তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রূপরেখা
রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নেওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করেছেন। আর তিনি তা বাস্তবে রূপান্তর করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি
বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি আমাদের বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং উভয় দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে তিনি বাংলাদেশের সর্বত্র মার্কিন ব্যবসায়ীদের হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অভিবাসন ও স্বাস্থ্য অংশীদারত্ব
অভিবাসন নিয়ে তিনি বলেন, আমরা অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতি মোকাবিলায় একত্রে কাজ করছি এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারত্ব নিশ্চিত করছি। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবিলা করছি।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যু
তিনি বলেন, এছাড়া আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকা বৃহত্তম দাতা দেশ হিসেবে আমাদের অবস্থান ধরে রেখেছি। সেই সঙ্গে এই সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিন উদযাপন
ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমি আরও একটি বিশেষ বছরে এখানে এসেছি। সামনে আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিন। আমি আশা করি, আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কারণ আমরা বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির ২৫০ বছর উদযাপন করবো।
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ
সামনের দিনগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১০০ দিন পর আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী। আমরা সামনে আরও কী কী অর্জন করতে পারবো, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সবাই ভালো থাকবেন, আবার দেখা হবে।



