১৮ মিলিয়ন ডলারে মার্কিন মামলা মেটাচ্ছেন আদানি
১৮ মিলিয়ন ডলারে মার্কিন মামলা মেটাচ্ছেন আদানি

ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং তার ভাতিজা সাগর আদানি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দায়ের করা একটি দেওয়ানি জালিয়াতির মামলা নিষ্পত্তির জন্য মোট ১৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন। ২০২৪ সালে এসইসি অভিযোগ করে যে, আদানি গ্রুপ ভারতে বড় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছিল এবং বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সময় মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।

চুক্তির শর্ত ও বর্তমান অবস্থা

প্রস্তাবিত এই রফাদফা চুক্তিটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে এই খবরে শুক্রবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে আদানি গ্রুপের শেয়ার দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আদানি গ্রুপ সবসময়ই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এসেছে। চুক্তির আওতায় আদানিরা অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার করেনি, তবে ভবিষ্যতে মার্কিন জালিয়াতি বিরোধী আইন লঙ্ঘন না করার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আদানি গ্রিন এনার্জি ও তহবিল সংগ্রহ

এসইসির মামলায় বলা হয়, আদানি গ্রিন এনার্জি দুর্নীতিবিরোধী আইন মেনে চলার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে ফোর্বসের মতে, ৬৩ বছর বয়সী গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা

এই দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদানিদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো, মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদানি রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বে নতুন আইনজীবী দল নিয়োগের পর বিচার বিভাগ অবস্থান পরিবর্তন করে। জিউফ্রা ট্রাম্পের হাশ-মানি মামলার আপিলের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিউফ্রা গত মাসে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানান, অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলে আদানি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। এই প্রতিশ্রুতি আদানি ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পর দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার মামলা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে নেওয়ার নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিবিসি এই বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ ও আদানি গ্রুপের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে।