তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয় আজ বুধবার বিধানসভায় আস্থা ভোটে ১৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই জয়ের পরপরই তিনি বিতর্কিত জ্যোতিষী রাধন পণ্ডিত ভেত্রিভেলকে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
জ্যোতিষীকে ওএসডি নিয়োগে বিতর্ক
ভেত্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এই জ্যোতিষী একসময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। জয়ললিতা বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নিতেন। তবে তাঁর একটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী ফলেনি। এরপরই জয়ললিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চুকে যায় বলে জানা গেছে।
জয়ললিতার কারাদণ্ডের পর সম্পর্কের অবনতি
কথিত আছে, ভেত্রিভেল জয়ললিতাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় তাঁর কারাদণ্ড হবে না। তবে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত জয়ললিতাকে কারাদণ্ড দেন। এরপরই তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, কারাদণ্ডের পর জয়ললিতা ওই জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর ভেত্রিভেল সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান।
নতুন পরিচিতি গড়ে তোলা
এই সময়ে ভেত্রিভেল নিজের নতুন পরিচিতি গড়ে তোলেন। তিনি নিজের নাম রাখেন ‘রাধন পণ্ডিত ভেত্রিভেল’। এই নামের মধ্যে উত্তর ভারতীয় ছাপ আছে। মূলত প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিজের পরিচিতি বাড়াতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছিলেন। তিনি চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। তবে তিনি কিছুদিন সিঙ্গাপুরে কাটান। এরপর তিনি ভারতের দিল্লিতে চলে যান।
ভেত্রিভেলের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাব–নিকাশ এবং বৃহত্তর পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি দিল্লি থেকে তামিলনাড়ুতে ফিরে আসেন। এর আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, দিল্লি থেকে ফেরার পর এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিজয়ের রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করেন ভেত্রিভেল।
বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানে জ্যোতিষীর ভূমিকা
অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক বলয়ে তাঁর ভূমিকা দ্রুতই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেত্রিভেল বিজয়কে এমন একটি আসন থেকে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন, যার নামের শুরু ‘ভি’ অক্ষর দিয়ে। নির্বাচনের আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের অভাবনীয় উত্থান হবে।



