জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম ও মঈনুল করিমসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আলী হায়দার, শেখ মুস্তাভী হাসান ও আমির হোসেন।
মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক। শামীম ওসমান ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন— শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।
এর আগে গত ৫ মে এ আদেশ দেওয়ার কথা ছিল। তবে এটি মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল-১। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২১ জুলাই ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে।



