তামিলনাড়ু বিধানসভায় আস্থা ভোটে বড় জয় পেলেন অভিনেতা ও রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। বুধবার (১৩ মে) ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় অনুষ্ঠিত ভোটে ১৪৪ জন বিধায়ক তার সরকারের পক্ষে ভোট দেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ ভোট। তবে আস্থা ভোটের দিনে ডিএমকে ও ডিএমডিকে বিধায়করা ওয়াকআউট করায় এবং পিএমকে ও বিজেপির ৫ বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকায় বিরোধীশূন্য কক্ষেই এই ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
বিজয়ের জয়ে এআইএডিএমকের ভূমিকা
বিজয়কে জেতানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রধান বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র একটি বড় অংশ। দলটির ৪৭ জন বিধায়কের মধ্যে শানমুগাম ও এসপি ভেলুমানির নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের ৩০ জন বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। অন্তত ২৫ জন এআইএডিএমকে বিধায়ক সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে দলীয় প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর (ইপিএস) নির্দেশ অমান্য করে ওই বিদ্রোহীরা বিজয়ের প্রতি নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করলেন। বর্তমানে ইপিএসের হাতে রইলেন মাত্র ২২ জন বিধায়ক।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের চ্যালেঞ্জ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানো এখনও বিজয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এআইএডিএমকে-র এই বিদ্রোহী অংশটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের দল টিভিকের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়, তবে তাদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ বা ৩১ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। তারা সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনও একজন কম।
ইপিএসের অভিযোগ ও বিজয়ের জবাব
এদিকে ইপিএস শিবিরের পক্ষ থেকে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র অভিযোগ তোলা হলে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় তার কঠোর জবাব দিয়েছেন। বিধানসভায় পাল্টা বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমার সরকার ঘোড়ার গতিতে চলছে, তবে আমরা কোনও ঘোড়া কেনাবেচায় বিশ্বাসী নই।' বিজয়ের দাবি, তার সরকার সবসময় অসাম্প্রদায়িক থাকবে এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলোর শুরু করা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখবে।



