ইরাকে ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটির খবর নাকচ করল বাগদাদ
ইরাকে ইসরাইলের ঘাঁটির খবর নাকচ করল ইরাক

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নজাফের মরুভূমি এলাকায় অজ্ঞাত সামরিক স্থাপনা থাকার খবর নাকচ করে দিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো এলাকা ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির আওতায় রয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনের পর বক্তব্য

মঙ্গলবার (১২ মে) ওই এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ বক্তব্য দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজাফ মরুভূমিতে অজ্ঞাত সামরিক ঘাঁটি কিংবা সন্দেহজনক তৎপরতার অভিযোগ ওঠার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই পরিদর্শন চালানো হয়।

ইরাকি বার্তা সংস্থার বরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত সামরিক ও গোয়েন্দা পরিকল্পনার আওতায় নজাফ মরুভূমির সব অংশ নিরাপদ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে কোনো অজ্ঞাত সামরিক তৎপরতা বা স্থাপনা নেই। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে ইরাক সরকার।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের বিবৃতি ও ঘটনা

এর আগে সোমবার রাতে ইরাকি জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের সিকিউরিটি মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরাকি ভূখণ্ডে, বিশেষ করে নুখাইবের পূর্বে কারবালার মরুভূমি এবং নজাফ এলাকায় অননুমোদিত ঘাঁটি ও বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বক্তব্য আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

বিবৃতিতে গত ৫ মার্চের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, কারবালা অপারেশনস কমান্ড ও নজাফ থেকে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অজ্ঞাত ও অননুমোদিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়। ওই গোষ্ঠীকে আকাশপথের সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন এবং আরও দুজন আহত হন। এ ছাড়া একটি সামরিক যান অচল হয়ে যায় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকা ও আশপাশে পৌঁছে সেখানে উপস্থিতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এর ফলে অননুমোদিত দলগুলো এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়।’ ইরাকি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত মরুভূমি অঞ্চলসহ সব এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, আলোচিত পুরো সময়জুড়ে ইরাকের ভূখণ্ডে কোনো অননুমোদিত সামরিক ঘাঁটি বা বাহিনীর অস্তিত্ব ছিল না।

ইসরাইলের গোপন ঘাঁটির খবরও অস্বীকার

এর আগে রোববার আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দেশটির মরুভূমিতে ইসরাইলের গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের খবরও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইরানবিরোধী বিমান হামলা পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরাইল ইরাকে গোপন ঘাঁটি স্থাপন করেছে—এমন দাবি ‘মিথ্যা’।

এর আগে শনিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে দাবি করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা সমর্থনে ইসরাইল ইরাকের মরুভূমিতে একটি গোপন সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেখানে ইসরাইলি বিশেষ বাহিনী মোতায়েন ছিল এবং সেটি ইসরাইলি বিমানবাহিনীর লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে ইরাকের পক্ষ থেকে এ ধরনের সব খবরই নাকচ করা হয়েছে।