কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখার কাছে খেতের আলোয় অবস্থান করা পুশ ইন চেষ্টার শিকার শিশুসহ ১২ নারী-পুরুষের কোনো সুরাহা দুই দিনেও হয়নি। ৬৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিএসএফ পুশ ইন করেনি বলে দাবি করে তাঁদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজিবি বলছে, তারা কখনো পুশ ইন করে না, তাই কোনো অনুপ্রবেশও হতে দেওয়া যাবে না।
আকুতি ভিডিও
৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে নানাভাবে আকুতি জানাতে দেখা যায়। তিনি বলেন, 'বর্তমানে আমরা বেহাল অবস্থায় আছি। আমাদের বাচ্চাকাচ্চা প্রায় অসুস্থ। গরমের ভেতর বাচ্চাকাচ্চা নিই টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের একটা ব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবন আর সহ্য হচ্ছে না।'
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, 'আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান। আমাদের চাওয়া-পাওয়া কিছু নাই। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে সব। আপনারা দেখেন আমরা কী। আমরা এ দেশের নাগরিক না রোহিঙ্গা? আপনারা তদন্ত কইরি দেখেন। আমাদের কাগজপাতি সবকিছু ওকে।'
স্থানীয়দের সহায়তা
স্থানীয় বাসিন্দা মো. গাজিউর রহমান গতকাল বিকেলে কৌশলে তাঁদের কাছে খাবার ও পোশাক পৌঁছে দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেলা তিনটার দিকে তিনি শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে যান। এ ছাড়া কয়েকটি মশারিও দেন। আরেক বাসিন্দা মিলন আলী তাঁদের খাওয়ার জন্য একটি বড় পাকা কাঁঠাল দেন। পাশাপাশি রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবারও দেওয়া হয়।
বিজিবি ও বিএসএফের অবস্থান
বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, নতুন কোনো তথ্য নেই। ১২ জন এখনো একই জায়গায় আছেন। বিএসএফ গতকাল পতাকা বৈঠকের পর আর কোনো তথ্য জানায়নি। এই ১২ জন ভারতীয় নন বলে দাবি করেছে বিএসএফ।



