মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিতে উপকারভোগীদের জন্য নির্মিত প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্যান্ডেল খুলে ফেলা হয়। এতে দীর্ঘক্ষণ উপকারভোগী ও দর্শনার্থীদের রোদ–বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
মঞ্চে পানি জমে
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে আসার কিছুক্ষণ আগে মঞ্চের ওপর ত্রিপলে পানি জমতে শুরু করে। মঞ্চের ভেতর থেকে বাঁশ দিয়ে খোঁচা দিয়ে পানি ফেলা হয়, কিন্তু পানি মঞ্চের ভেতরেই পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার 'বেল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট' নামের একটি প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ, প্যান্ডেল ও অন্যান্য সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিল। তবে বৃষ্টির মৌসুম বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও টেকসই কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই মাঠের বড় প্যান্ডেলের একটি অংশ বাতাসে হঠাৎ ভেঙে পড়ে। তখন উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। পরে তড়িঘড়ি করে প্যান্ডেল খুলে ফেলা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে আসা সাধারণ মানুষ, উপকারভোগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হন। অনেককে ছাতামাথায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকে আবার বৃষ্টিতে ভিজেই অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পরও অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে বৃষ্টির পানি জমে থাকার দৃশ্য দেখা যায়। মঞ্চের ওপর টানানো ত্রিপলের বিভিন্ন অংশে পানি জমে গেলে কর্মীরা বাঁশ দিয়ে চাপ দিয়ে বা ছিদ্র করে সেই পানি বের করার চেষ্টা করেন। পানি সরানোর সময় কিছু পানি মঞ্চের ভেতরে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ক্ষোভ প্রকাশ
অনুষ্ঠানে আসা সিরাজ মিয়া নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের যদি এমন নিম্নমানের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠানের অবস্থা কী হবে? সামান্য বৃষ্টি আর বাতাসেই প্যান্ডেল ভেঙে পড়েছে, মঞ্চের ওপর পানি জমেছে, পানি চুইয়ে পড়েছে। এত বড় একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আগে এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক উপকারভোগী প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা সকাল থেকে মাঠে ছিলাম। বৃষ্টি শুরুর পর আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্যান্ডেল ভেঙে যাওয়ার পর সবাই খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক বৃদ্ধ ও নারী কষ্ট পেয়েছেন।'
প্রতিক্রিয়া
অব্যবস্থাপনার বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ঢাকার একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানস্থলের অবকাঠামোগত কাজ করেছে। প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
পরে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বেলা একটায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকার সময়ও মঞ্চের ভেতরে পানি পড়তে দেখা যায়। বেলা একটায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
পরে প্রধান অতিথি তারেক রহমান ১৫৫ জনের মধ্যে ১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে জীবনমান উন্নয়নে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা, পাঁচ শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা অনুদান এবং দুস্থ, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদানের চেক তুলে দেন। এ ছাড়া টেকসই আবাসন নিশ্চিত করতে পাঁচজন চা-শ্রমিকের হাতে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক বরাদ্দপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।



