সংসদে ফ্যামিলি কার্ড প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, বক্তব্য এক্সপাঞ্জ
সংসদে ফ্যামিলি কার্ড প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলাতে ইতোমধ্যে দেখেছি, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা প্রতিদিনের রিপোর্ট আছে।”

তবে সরকারি দলীয় সংসদ সদস্যের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে’ এই বিষয়টি সংসদে এক্সপাঞ্জ করা হয়। নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি এক্সপাঞ্জ চাইলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ধর্ষণের বিষয়টি এক্সপাঞ্জ করেন।

তবে এনিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে এক্সপাঞ্জ করার প্রতিবাদ জানান। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি সংসদে আনা মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ধর্ষণের তথ্য তুলে ধরেন। জামায়াতের এই দুই নেতার বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে’ অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনা এবং পয়েন্ট অর্ডারের আলোচনায় এই চিত্র উঠে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজেট বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গ

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছে। ৪১ লাখ ফ্যামিলিকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এটা হিসাব করলে পরে ওয়ার্ড পিছু ৯০টা করে পরিবার পাবে। তাহলে বাকি যে দরিদ্র ফ্যামিলিগুলো আছে তাদের অবস্থাটা কী হবে? এবং এইটা পাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে আমরা সংবাদপত্রগুলাতে ইতোমধ্য দেখেছি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা প্রতিদিনের রিপোর্ট আছে।”

পয়েন্ট অফ অর্ডারে আপত্তি

এই বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এম মাহবুবউদ্দিন খোকন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেছেন, “ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। এটা দুঃখজনক ব্যাপার। সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত না। সংসদের ভাষা জানতে হবে। সেভাবে বলতে হবে। তাহলে বক্তব্যটা স্পষ্ট করার জন্য আমি অনুরোধ করছি।” তিনি বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ চান।

এসময় ডেপুটি স্পিকার এম মাহবুবউদ্দিন খোকনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় সদস্য, আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, আপনি মেহেরপুর-১ আসনের সদস্য তিনি তার বাজেট বক্তব্যে বলেছেন ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করেছেন। এই বক্তব্যটা এক্সপাঞ্জ চাচ্ছেন। এইটাই তো আপনার বক্তব্য? হ্যাঁ, আমিও শুনেছি এরকম কথা বলেছেন। পয়েন্ট অফ অর্ডারে আপনি দাঁড়িয়েছেন। এই স্টেটমেন্টটা এক্সপাঞ্জ করা হলো।”

প্রতিবাদ ও তথ্য উপস্থাপন

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ চান। তিনি বলেন, “এক্সপাঞ্জ তো হবে যদি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন। অথবা অসংসদীয় শব্দ যদি ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এক্সপঞ্জ হবে। আমার ধারণা উনি এই ধরনের কথা বলেনেনি। কাজেই উনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।”

এরপর মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যকে কথা বলার সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান বলেন, “আমার আলোচনার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অনেক জায়গায় আমি এটা ব্যবহার করেছিলাম। অবশ্য এই কথাটার ওপর মাননীয় সদস্য (এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আপত্তি করেছিলেন শুনেছি। আমার কাছে যে তথ্য ছিল তা সময়ের অভাবে দিতে পারিনি। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরে সোনাগাজী থানাতে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগের একটি মামলা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে। ওসি সাহেব এর প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে এটা প্রমাণ হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের ২৫ তারিখে রংপুর মিঠাপুর উপজেলার ভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহসম্পদ এনামুল হক, তাকে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কারণে।”

এরপর এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে বসতে বলেন।

ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত

এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনি যা বলতে চেয়েছিলেন, আমি তাকে বলি। মাননীয় সদস্য, ফ্যামিলি কার্ড যে প্রজেক্ট সেটা শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী বা এই সরকারের না সারা দেশের মানুষের একটা বিষয়। এই প্রজেক্ট সম্পর্কে যেহেতু একটা অভিযোগ এনেছেন আপনি নিজে পার্সোনালি এটা কোনও ক্ল্যারিফিকেশন দিতে পারেননি। যেকারণে মাননীয় সদস্য হিসাবে আমি এটা বলেছি যে, ‘ধর্ষণের অভিযোগ’ লাইনটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। আমার মনে হয় যে, এক্সপাঞ্জ হয়ে গেছে। আর তিনি নিজে ক্ল্যারিফিকেশন না করে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছেন— সেজন্য এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।”