জামায়াতের সংসদ সদস্যকে মাইক্রোওয়েভ দিতে চাইলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে মাইক্রোওয়েভ, ওয়াসিং মেশিন এবং পর্দা চেয়েছিলেন ওই সংসদ সদস্য। তার জবাবে পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ মাইক্রোওয়েভ দিতে চান তাকে। পাশাপাশি জামায়াতের নেতা যা চেয়েছেন তা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।
তিনি এসময় আরও বলেন, “জামায়াতের এমপির এই ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস এইটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়।” বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা তিনটায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের আলোচনা শুরুর প্রক্কালে পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।
পার্থের বক্তব্য
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদ চলাকালীন বা সংসদের ব্যাপারে হতে হবে। এজন্য আমি মনে করলাম যে, এটা ব্রডার কনটেক্সটে সংসদকে এফেক্ট করে। অনেক কষ্টের পরে পার্লামেন্ট আমরা পেয়েছি এবং আমি আমার প্রথম স্পিচেও বলেছিলাম যে বেস্ট পার্ট অব দা পার্লামেন্ট এই যে, এখানে স্বৈরাচারের কোনও দোসর বা ফ্যাসিস্টের কেউ নেই। গত পার্লামেন্টে শুধু গণতন্ত্রের হত্যা হয়নি, পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজ থেকে আরম্ভ করে— এখানে গান হয়েছে। এখানে অন্য কিছু হয়েছে।”
পার্থ বলেন, “আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, ডাইরেক্টলি ওদিকে না গেলেও কিছু কিছু জায়গায় কিন্তু আমরা ওদিকে চলে যাচ্ছি। আমরা কিন্তু মেম্বার অব পার্লামেন্ট ছাড়াও অ্যাম্বাসেডরস অব দ্য পার্লামেন্ট। আমরা যখন বাইরে কোথাও যাই আমরা পার্লামেন্টকে রিপ্রেজেন্ট করি। কালকে পরশু দিন পার্লামেন্ট থেকে যাবারও পরে পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই এবং সেখানে আমি ডিফেন্ড করার চেষ্টা করি এবং ডেইলি স্টার নিউজ করে জামায়াত এমপির ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টিনস এইটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি এই পার্লামেন্টকে অনেক লজ্জা দেয়— একটা মেম্বার অব পার্লামেন্ট এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবে, যেখানে বিভিন্ন জনগণের দাবির কথা বলবে সেখানে একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট দাঁড়িয়ে উনি ওয়াশিং মেশিন পেলো না, মাইক্রোওয়েভ পেলো না, কার্টিনস পেলো না— সেই ব্যাপারে দাঁড়িয়ে কথা বলবে।”
গাড়ি ও প্লট প্রসঙ্গ
১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা স্মরণ করে দিয়ে পার্থ সংসদে বলেন, “যেখানে আবার বলা হয় যে, আমরা গাড়ি নেবো না, প্লট নেবো না— আমার কাছে মনে হয় যে, আসলেই যদি গাড়ি আর প্লট যখন তারা বাদ দিলো তখন ওনাদের বুকের ওপরে কত বড় পাথর চাপা দিয়ে বাদ দিতে হলো যে, মাইক্রোওয়েভ আর ওয়াশিং মেশিনের জন্য এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে যে, এই স্ট্যান্ডার্ড আর স্ট্রাচার আমাদেরকে মেনটেইন করা উচিত।”
পার্থ বলেন, “আমি জেনারেলি এটা বলছি যে, আমি খুব সিরিয়াসলি বলছি বা তারপরও যদি আমার ভাই যেহেতু কমেন্ট করেছেন উনি চান। আমি তাকে এমব্যারেস না করে আগামীতে যদি তার পর্দা বা মাইক্রোওয়েভ লাগে আমি আমার তরফ থেকে তাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে রিকোয়েস্ট করতে চাই— যদি ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেয় এবং হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম যে উনি পর্দাটা যদি কিনে দেন, তাহলে তার সংসারটা আমরা বুঝায়ে দিতে পারতাম। তারপরও যদি আমার পার্লামেন্টকে উনি এমব্যারেস না করতেন।”



