সংসদে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, জনকল্যাণের আলোচনা চান বিরোধীদলীয় নেতা
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান জোর দাবি জানিয়েছেন, সংসদ কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা চরিত্র হননের মঞ্চে পরিণত হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, "সংসদ হওয়া উচিত জনকল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রস্থল"।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য সংসদে
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলেন, "অতীতে জনস্বার্থের বিষয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও চরিত্র হননের চেষ্টাই বেশি দেখা গেছে"।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংসদ জনকল্যাণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে। "এটি সাধারণ কোনো সংসদ নয়। এটি দাঁড়িয়ে আছে জুলাই ২০২৪ আন্দোলন ও বিপ্লবের রক্তস্রোতের উপর" বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ
শফিকুর রহমান তার বক্তৃতার শুরুতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ দেন। তিনি ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন গত পনেরো বছর আট মাসের জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও অবিচারের শিকার ব্যক্তিদের, সেইসাথে জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের। তিনি শহীদদের চিরশান্তি কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রের অবস্থা
স্পিকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৫৫ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে সংসদীয় গণতন্ত্র মাত্র স্বল্প সময়ের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। তিনি বলেন, "বেশিরভাগ সময় দেশ ফ্যাসিবাদী শাসনের অধীনে ছিল এবং সংসদ মূলত 'ডামি' প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে"।
তিনি আরো মন্তব্য করেন, অনেক পূর্ববর্তী স্পিকার গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণে পর্যাপ্ত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, "যারা গত পনেরো বছর আট মাস নির্যাতিত হয়েছেন এবং যারা জুলাই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তারাই আমাদের আজ এই সংসদে কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন"।
