হাতিয়ায় লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণ প্রতিবাদে এনসিপি-বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষ, আহত ৭
হাতিয়ায় লঞ্চ ধর্ষণ প্রতিবাদে মিছিলে সংঘর্ষ, আহত ৭

হাতিয়ায় লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণ প্রতিবাদে এনসিপি-বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষ, আহত ৭

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি ও বিএনপির পৃথক বিক্ষোভ মিছিল মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে দুই পক্ষের মিছিলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতি শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রতিবাদ মিছিল ও সংঘর্ষের বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, লঞ্চে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল থেকেই হাতিয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু হয়। এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলগুলো শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় একপর্যায়ে কাছাকাছি চলে আসে। তখন দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও হাতাহাতির সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

আহতদের তালিকা ও চিকিৎসা

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অন্যদিকে আহত হয়েছেন উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ধর্ষণের ঘটনা ও পুলিশি ব্যবস্থা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের কেবিনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠুকে (৩২) গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, "বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিল সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।