জাতীয় ছাত্র শক্তি'র বিক্ষোভ: ভারত থেকে শেখ হাসিনাসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের ফেরত চাইল
ছাত্র শক্তি'র বিক্ষোভ: ভারত থেকে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরত চাইল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্র শক্তি'র বিক্ষোভ মিছিল

জাতীয় ছাত্র শক্তি সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে, যেখানে প্রধান দাবি হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে যে শেখ হাসিনা এবং জুলাই বিপ্লবের অন্যান্য অভিযুক্তদের, পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যার অভিযুক্তদের ভারত থেকে ফেরত এনে দেশে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে এই মিছিলটি শুরু হয় এবং এটি ভিসি স্কয়ার ও হল এলাকার বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করার পর রাজু ভাস্কর্যের নিচে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

নেতাদের বক্তব্য ও দাবি

ছাত্র শক্তি'র কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান তাঁর বক্তব্যে明确指出 যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী নেতারা ভারত থেকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, "যদি আমাদের প্রতিবেশী দেশ দায়িত্বশীলভাবে কাজ করত, তাহলে তারা তাকে বহু আগেই ফেরত পাঠাত। যখন অন্য কোনো দেশ শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়নি, তখন ভারতই সেই হত্যাকারীদের গ্রহণ করেছিল।" সরকারকে সরাসরি সম্বোধন করে তিনি যোগ করেন, "দায়িত্বশীল হোন, শহীদ হাদির হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনুন যাতে তারা তাঁর হত্যার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে পারে। একই সাথে, বাংলাদেশের জনগণের কাছে এই হত্যার পেছনের উদ্দেশ্যগুলো উন্মোচন করুন। ছাত্রলীগকে কখনোই ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া যাবে না — বরং তাদের শিকার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।"

ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "আমরা এখন শুনছি যে ছাত্রলীগকে রাজনীতি করার অধিকার দেওয়া উচিত। তাদের সাধারণ নাগরিকের মতো আচরণ করা যাবে না — তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যারা এই যুক্তি দিচ্ছেন, তারা কি এই দেশের ১৭ বছরের নিপীড়নের কথা ভুলে গেছেন?" তিনি বিএনপি'র ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনের জন্য একটি বার্তা দেন: "নির্দিষ্ট বিষয়ে একত্রিত হোন। যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসে, ক্যাম্পাসগুলো আগের মতো হয়ে যাবে, এবং সারা দেশজুড়ে মাফিয়ারা তাদের মাথা তুলবে।"

এই বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ছাত্র শক্তি সংগঠনটি তাদের দাবিগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করেছে। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে অভিযুক্তদের ফেরত আনা ও বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে। সংগঠনটির নেতারা সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে।