ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে সংসদে যাচ্ছি না: নাহিদ ইসলামের স্পষ্ট ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার জন্য তারা আগামী সংসদ অধিবেশনে অংশ নেবেন না। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেছেন যে ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে তাদের উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য হবে সংস্কার আদায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং উচ্চকক্ষ গঠনের সময়সীমা নির্ধারণের দাবি তুলে ধরা।
রাজশাহীতে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহী টিচার্স ট্রেইনিং কলেজ মাঠে এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি সংসদে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়ে বলেন, "আমরা শুনতে পাচ্ছি, সেদিন ফ্যাসিস্টের রেখে যাওয়া লেজুড় রাষ্ট্রপতি বক্তব্য রাখবেন। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই- ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না। আমরা সংসদে যাচ্ছি সংস্কার আদায় করার জন্য। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। কবে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে সেটা দেখার জন্য।"
হাদি হত্যার বিচার ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মন্তব্য
নাহিদ ইসলাম শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীদের ভারতে গ্রেফতারের খবর শোনার পর দ্রুত তাদের দেশে ফেরত আনা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও তিনি সতর্ক করে দেন যে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি বন্ধ না হলে এই কার্ড দেশের কোনো কাজে আসবে না। তিনি ঋণখেলাপিদের দ্রুত ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
এই ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
- এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম
- মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম
- এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ
- মাহিন সরকার, তাহসিন রিয়াজ
- জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও রাজশাহী বিভাগের নেতারা
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। এই সমাবেশে বিরোধী দলীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়।
