সংসদে ঋণগ্রহীতা ৫০ শতাংশ, সুজনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সংসদে ঋণগ্রহীতা ৫০%, সুজন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্ন

সংসদে ঋণগ্রহীতার হার ৫০ শতাংশ, সুজনের তথ্যে উদ্বেগ

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৫০ শতাংশ। এই ঋণগ্রহীতা বিজয়ীদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন, এবং মজার বিষয় হলো, ১২৬ জনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এই তথ্য উপস্থাপন করে, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় ঋণগ্রহীতার হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ঋণগ্রহীতার হার বৃদ্ধি: আগের নির্বাচনের তুলনায়

সুজন আরও দাবি করেছে যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা এবারে বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরে, সুজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই ঋণগ্রহীতার হার বৃদ্ধি সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে, যা সুশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অযোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলোর তদন্ত না করে তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে, যা তাদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। মজুমদারের মতে, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনি ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তিনি আরও বলেন, যখন এ ধরনের প্রশ্ন ওঠে, তখন নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে, ফলাফল বাতিল করতে পারে, বা নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু এই নির্বাচনে এই প্রশ্নগুলো উঠলেও, নির্বাচন কমিশন তদন্ত করেনি, যা তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে।

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ: তদন্তের দাবি

সুজন সম্পাদক আরও বলেন, নির্বাচনের আগে অনেকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল, এবং তারা আদালত থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি অভিযোগ রয়েছে যে অনেকে প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন। এসব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর গেজেট প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল, এবং নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুষ্ঠু হয়েছে কিনা, সেটি ‘সার্টিফাই’ করারও সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি বলে সুজন অভিযোগ করেছে।

তবে, বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন যে এখনও সুযোগ আছে, কারণ আরপিওর ৯১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ ওঠে, তাহলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, এমনকি নির্বাচন বাতিলও দিতে পারবে। এই মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।